অন্য খাতে রফতানি বাড়লে ডলারের চাপ কমবে: সালমান এফ রহমান

সময়: Sunday, July 24th, 2022 9:39:14 am

নিউজবিজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত, শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে যেসব সুযোগ- সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা যদি অন্য খাতগুলোতেও দেওয়া হয় তাহলে আমাদের রফতানি আয় অনেক বেশি হবে। ফলে ডলারের উপর চাপ কমবে। এজন্য খুব শিগগিরই সরকার অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ওষুধ শিল্প খাতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির সম্ভব হবে।

শনিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের রপ্তানি: কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)র বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রহমান।

সালমান এফ রহমান বলেন, ওষুধ শিল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমাদেরকে আরো বেশি হারে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী বেশি হারে বায়োলজিক্যাল ড্রাগ উৎপাদনের প্রবণতা আগামীতে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

সালমান এফ রামান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার প্রভাবে দেশে বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেটাকে সাময়িক উল্লেখ করে চলমান এই সংকট সাময়িক হলেও এর সমাধান বের করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমরা আমদানি কমিয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। তবে যোগানের বিষয়েও কাজ করতে হবে।

মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশনের সময়ে করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মত বেশকিছু বৈশ্বিক সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বেশি থাকায় আমাদের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তৈরি পোষাক রপ্তানিতে আমরা আমাদের সক্ষমতা দেখিয়েছি। ওষুধ শিল্পখাতসহ অন্যান্য খাতে এ সক্ষমতা বজায়ে রাখতে পারলে দেশের রপ্তানি উল্লেখজনক হারে বাড়বে। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ হতে বেসরকারি খাতকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. মোস্তাফিজুর রহমান করেন, আমাদের অর্থনীতির জন্য ঔষধ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেটি আভ্যন্তরীন চাহিদার প্রায় ৯৭% উৎপাদন করতে সক্ষম, যার মূল্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে ঔষধ খাতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৮৮.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশের ঔষধ ও কেমিক্যাল খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ হলো ৪১৯.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায় ১.৯৪ শতাংশ।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের স্বার্থে মেধাসত্ত্ব আইন গ্রহণের জন্য আমাদের বেসরকারি খাতকে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং সেই সাথে সরকারের পক্ষ হতে প্রণোদনা দেয়া একান্ত অপরিহার্য।

নিউজটি ১৩৭ বার পড়া হয়েছে ।