চূড়ান্ত বাজেটে ৫ প্রস্তাব বিবেচনার দাবি বিনিয়োগকারীদের

সময়: Tuesday, June 14th, 2022 8:48:59 pm

নিউজবিজ্ প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে পাঁচটি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ অর্থমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধ্বসের ফলে বহু বিনিয়োগকারী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ৩৪ জন বিনিয়োগকারী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পুঁজিবাজারের পতনের দায় তৎকালীন সরকারের উপর পড়েছিল। এরপর থেকে পুঁজিবাজার আর পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী স্থিতিশীলতা পায়নি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ বর্তমানে এগিয়ে থাকলেও পুঁজিবাজারের মন্দাভাবের কারণে তা বার বার ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাজেটে শেয়াবাজারের উন্নয়ন ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হলে সেই তালিকাভূক্ত কোম্পানীর জন্য করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি একটি যুগান্তকারী প্রস্তাবনা।

চূড়ান্ত বাজেটে যে বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-

অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ: অপ্রদর্শিত অর্থ ১০ শতাংশ কর প্রদান করে বিনা শর্তে শুধুমাত্র পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাবে, পুঁজিবাজার গতিশীল হবে, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ হবে, দেশীয় শিল্প উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকারেরও প্রচুর পরিমানে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।

কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো: প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভূক্ত ও অতালিকাভূক্ত কোম্পানীর করহার ২.৫% কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তালিকাভূক্ত কোম্পানীর করহার ১৫% করার জোর সুপারিশ করছি। এতে বহু নতুন ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হতে আগ্রহী হবে। কোম্পানীগুলোর নীট মুনাফা বৃদ্ধি পাবে এবং লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে। যার ফলে পুঁজিবাজার গতিশীল হবে।

লভ্যাংশের উপর ট্যাক্স লভ্যাংশের উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করতে হবে। কোম্পানীগুলো লভ্যাংশের ঘোষণার পূর্বে সরকারকে অগ্রীম যে ট্যাক্স দিয়ে থাকে সেটাকে চূড়ান্ত ট্যাক্স হিসাবে গণ্য করতে হবে। ভাল লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় তখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ বাড়বে এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতা কমবে।

লভ্যাংশ প্রদান: পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত অনেক কোম্পানী ভালো মুনাফা করা স্বত্ত্বেও উপযুক্ত লভ্যাংশ প্রদানে গড়িমসি করে। কোম্পানীগুলোর নীট মুনাফার নূন্যতম ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসাবে শেয়ারহোল্ডারদের প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি। উপযুক্ত পরিমাণ লভ্যাংশ পাওয়ার প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বাড়বে এবং পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে।

অর্থের যোগান: বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে পুঁজিবাজারের অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পুঁজিবাজারের দুঃসময়ে ঐ প্রতিষ্ঠানসমূহ পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে সক্ষম হবে।

নিউজটি ১৫২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged